টাঙ্গাইলের মগড়ায় সরকারি খালের উপর স্থাপনা নির্মাণ ; দখল নিয়ে সংঘর্ষের আশঙ্কা

টাঙ্গাইল সদর উপজেরার মগড়া ইউনিয়নের আয়নাপুর বাজারের পাশ দিয়ে প্রবাহিত ধলেশ্বরী নদীর শাখা ও খাল জবরদখল পূর্বক সরকারি জায়গায় মাটি ভরাট ও আরসিসি পিলারের মাধ্যমে স্থাপনা নির্মাণ করা হচ্ছে। লাখ লাখ টাকার বিনিময়ে জবরদখল করা সরকারি জায়গা হাতবদল হচ্ছে প্রায়শই। কিছু ক্ষেত্রে দলীয় ও পেশীশক্তির প্রভাব খাঁটিয়ে একজন দখল করে নিচ্ছে আরেকজনের দখল করা সরকারি জায়গা। সরকারি জায়গা ভোগ দখল ও মালিকানা হস্তান্তরকে কেন্দ্র করে ওই এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। যেকোন সময় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, মগড়া ইউনিয়নের আয়নাপুর বাজারের পাশ দিয়ে বয়ে চলা খালটির পাশে সরকারি ভূমিতে বেশ কিছু অবৈধ স্থাপনা রয়েছে। কেউ কেউ সরকারি ওই জায়গায় টিনের ছাপড়া দিয়ে দোকান ঘর বানিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করছে, আবার কেউ কেউ আরসিসি পিলার করে ফাউন্ডেশন দিয়ে দোকান বানিয়ে নিজেরা ব্যবহার করছে বা ভাড়া দিয়ে আর্থিক সুবিধা ভোগ করছে।

মগড়া ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের সদস্য রেজাউল করিম ও সাবেক ইউপি সদস্য মো. আজমত আলী জানান, মগড়া ইউনিয়নের আয়নাপুর বাজারটি ক্ষিদির ও আয়নাপুর মৌজায় অবস্থিত। বাজারের কিছু অংশ পেরিফেরির জায়গা আর কিছু অংশ সরকারি খাস জায়গা রয়েছে। আমরা চাই এলাকার শান্তি রক্ষার্থে সবাই মিলেমিশে থাকুক। তবে কেউ অন্যায় করলে তার শাস্তি পাওয়া উচিত।

ওই বাজারের চায়ের দোকানদার শাজাহান, সাজন ও চায়ের দোকানে আসা আরো কয়েকজনের সাথে কথা বলে জানা যায়, এলাকার গরিব মানুষেরা সরকারি খাস জায়গায় অনেক বছর যাবত দোকান নির্মাণ করে ছোটখাট ব্যবসার মাধ্যমে সংসার চালাচ্ছে। এলাকার এই দোকানগুলোতে দিন দিন বেচাবিক্রি বাড়ছে, ব্যবসা ভাল হচ্ছে। তাই অনেকেই টাকা দিয়ে একজন আরেকজনের কাছ থেকে জায়গার মালিকানা নিজের নামে করে নিচ্ছে। কেউ কেউ দখলের চেষ্টা করছে। এই অবস্থা চলতে থাকলে এলাকায় যেকোন সময় সংঘর্ষের আশঙ্কা রয়েছে।

ওই এলাকার বাসিন্দা এলাহী মাস্টার জানান, অন্যদের মতো ছামাদ আলী নদী পাড়ের সরকারি খাস আধা শতাংশ জায়গা দখল করে দোকান নির্মাণ করেছিল। প্রায় ত্রিশ বছর আগে বিশ হাজার টাকার বিনিময়ে তার কাছ থেকে ছাপড়া ঘর’সহ তিনি ওই জায়গার দখল বুঝে নিয়ে ব্যবসা শুরু করেন। টাঙ্গাইল পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির অফিস থেকে বিধি-বিধান মেনে সমিতির আওতাভূক্ত হয়ে মিটার সহ বিদ্যৎ লাইনের সংযোগ(হিসাব নং ৩২৫-৮০১০, সমিতির সদস্য পদ নং ৪৩৫৯৪-১১) গ্রহন করেন। গত কয়েকমাস যাবৎ মগড়া ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. মকিম উদ্দিন, ভিতর শিমুল গ্রামের মো. আজিজুল হক, মো. আব্দুল হামিদ ও মিনহাজ উদ্দিন আমার দখলে থাকা আধা শতাংশ সরকারি খাস জমি বেদখলের পায়তারা করছে। গত ডিসেম্বর মাসের ২৭ তারিখে তার দোকাঘর ভেঙ্গে ওই স্থানে জোড়পূর্বক ঘর নির্মাণ করে দখলের চেষ্টা করছিল। এ বিষয়ে টাঙ্গাইল সদরের অ্যাসিল্যান্ড(সহকারী কমিশনার) অফিসে ও থানায় অভিযোগ দেয়ার পর তাদের হস্তক্ষেপে ঘর দখল বন্ধ রয়েছে। বিষয়টি মগড়া ইউপি চেয়ারম্যানকেও জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে আজিজুল হক ও মকিম উদ্দিনের ছেলে রুহুল বলেন, এলাহী মাস্টারের দখলে থাকা যে জায়গাটি সরকারি খাস জমি দাবি করছেন, তা তারা সোহাগী বিবির কাছ থেকে রেজিস্ট্রি দলিলের মাধ্যমে ২০১৩ সালে ক্রয় করেছেন। সরকারি সম্পত্তি বিক্রি হলো কিভাবে জানতে চাইলে তারা প্রসঙ্গটি এড়িয়ে যান। তাদের স্বপক্ষে কোন কাগজপত্র তারা দেখাতে পারেননি।

এলাহী মাস্টারের দোকানের উত্তর পাশে ছানোয়ারের ভাত, রুটি ও মিষ্টির দোকান আর দক্ষিণ পাশে মোশারফের ফার্মেসী। এ বাজারে অনেকেই সরকারি খাস জায়গা জবরদখল করে ভোগ করছে।

এছাড়া এলাকার প্রভাবশালী দখলদারদের কেউ কেউ কয়েকটি করে দোকানের মালিক সেজে সরকারি জায়গায় দোকান তৈরি করে, সেই দোকান ভাড়া দিয়ে অর্থ আদায় করছে। দোকানগুলো অবৈধভাবে গড়ে ওঠায় সরকার একদিকে রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে অপরদিকে নদীর অংশ ভরাট হয়ে যাচ্ছে।

সার্ভেয়ার সাইফুল ইসলাম জানান, এলাহী মাস্টারের ওই দোকানসহ বেশকিছু জায়গা খাস জমির আওতায় রয়েছে।

মগড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আজাহারুল ইসলাম এ বিষয়ে প্রথমে কোন মতামত ব্যক্ত করতে না চাইলেও পরে বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে আমি জানি। কিছুদিনের মধ্যেই মিমাংসার চেষ্টা করব।

এবিষয়ে টাঙ্গাইল সদর উপজেলা সহকারী(ভূমি) সুখময় সরকার বলেন, আমি নতুন যোগদান করেছি। সরেজমিনে ওই এলাকায় গিয়ে বিষয়টি দেখে যদি অবৈধভাবে কোন কিছু হয়ে থাকে, সে বিষয়ে ব্যবস্থা নেব।

(দৃষ্টি, ঘাটাইল ডট কম)/-

132total visits,1visits today