টাঙ্গাইলের ভাসানী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগ সভাপতির বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ

টাঙ্গাইলের মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি সজীব তালুকদারের বিরুদ্ধে শিক্ষককে হুমকি, কর্মচারীকে কাজে যোগদানে বাধা, সাংবাদিক নির্যাতন, মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজিসহ নানা অভিযোগ পাওয়া গেছে। কেউ এসব অপকর্মের প্রতিবাদ করতে গেলে তাঁকে জামায়াত-শিবিরের লোক বলে নির্যাতন করা হয় বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ব্যক্তিরা।

সর্বশেষ ১৪ জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাইমিনুল কাইয়ুমকে এই অপবাদ দিয়ে নির্যাতন করা হয়।

জানতে চাইলে টাঙ্গাইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইদুল ইসলাম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়টির সার্বিক বিষয় পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। এসব ব্যাপারে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিশ্ববিদ্যালয় ও স্থানীয় বাসিন্দা সূত্রে জানা যায়, গত ১০ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের কমিটির অনুমোদন দেয় কেন্দ্র। ১০ সদস্যের এই কমিটিতে সজীব তালুকদারকে সভাপতি ও সাইদুর রহমানকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়। সজীব তালুকদার বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস এবং আশপাশ এলাকার ইয়াবা ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ করেন। সম্প্রতি একটি গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনেও তাঁকে বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার মাদক সিন্ডিকেটের মূল হোতা বলে চিহ্নিত করা হয়েছে। তিনি কর্মীদের নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে নিয়োজিত ঠিকাদার ও ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায় করেন। তা না দিলে অথবা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষক বা কর্মচারী তাঁর কথামতো কাজ না করলে জামায়াত-শিবিরের লোক বলে অপপ্রচার চালিয়ে নাজেহাল করেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ভুক্তভোগী কয়েকজন ব্যবসায়ী বলেন, সজীব তালুকদারকে চাঁদা না দিয়ে তাঁরা কোনো কাজ করতে পারেন না। চাঁদা না দিলেই নানাভাবে সমস্যায় ফেলেন। ইদানীং তিনি ক্যাম্পাসে নতুন দোকান বসিয়ে ভাড়াও তুলছেন।

১৪ জানুয়ারি দুপুরে বিজ্ঞান অনুষদের ডিন ও গণিত বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক পিনাকী দেকে ছাত্রলীগের সভাপতির অনুসারী মো. ইমরান মিয়া মুঠোফোনে ছাত্রলীগের এক কর্মীকে পাস করিয়ে দেওয়ার জন্য বলেন। পিনাকী এ কাজ করতে অপারগতা প্রকাশ করলে ইমরান হুমকি দেন।

পিনাকী দে বলেন, ইমরান ফোন করে ছাত্রলীগের কর্মী রাজিকুর রহমানকে ফাইনাল পরীক্ষায় পাস করিয়ে না দিলে দেখে নেওয়ার হুমকি দেন। এ ঘটনায় তিনি টাঙ্গাইল সদর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও শিক্ষক সমিতিকেও লিখিতভাবে জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে ইমরান বলেন, ‘রাজিকুর রহমানকে পাস করিয়ে দেওয়ার জন্য ওই শিক্ষককে অনুরোধ করেছিলাম। পরে তা সমঝোতা হয়ে গেছে।’ ওই খবর পত্রিকায় প্রকাশ করায় বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাইমিনুল কাইয়ুমকে ১৪ জানুয়ারি রাত ১২টার দিকে বঙ্গবন্ধু হল ছাত্রলীগের সভাপতি সজীব তালুকদার কক্ষে ডেকে নেন। সেখানে প্রায় চার ঘণ্টা আটকে রেখে তাঁকে মানসিকভাবে নির্যাতন করা হয়। পরে প্রক্টর ও পুলিশে ফোন করে শিবিরের কর্মী ধরা পড়েছে বলে জানানো হয়। ভোর চারটার দিকে প্রক্টর সিরাজুল ইসলাম পুলিশসহ বঙ্গবন্ধু হলে গিয়ে মোহাইমিনুলকে উদ্ধার করেন।

প্রক্টর সিরাজুল ইসলাম বলেন, শিক্ষককে হুমকি দেওয়ার ঘটনায় উপাচার্য আগামী শনিবার শিক্ষকদের নিয়ে সভা করবেন। এ ঘটনায় ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক প্রক্টরের কাছে এসে ক্ষমাও চেয়েছেন। তিনি মোহাইমিনুলকে ছাত্রলীগের সভাপতির কক্ষ থেকে উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রের চতুর্থ শ্রেণির এক নারী কর্মচারীকে প্রায় ১০ দিন ধরে ছাত্রলীগের সভাপতি অফিস করতে দিচ্ছেন না বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ওই কর্মচারী তাঁর স্বামীর বিরুদ্ধে একটি মামলা করেন। ছাত্রলীগের সভাপতি মামলাটি তুলে নেওয়ার জন্য ওই কর্মচারীকে নির্দেশ দেন। তা না শোনায় ওই কর্মচারীকে অফিস করতে দেওয়া হচ্ছে না। স্বাস্থ্যকেন্দ্রের উপপ্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা কাওসার আহমেদ ও প্রক্টর এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে সজীব তালুকদার বলেন, গণিত বিভাগের ডিনের সঙ্গে যে সমস্যা হয়েছিল, তা সমাধান হয়ে গেছে। ছাত্রলীগের কেউ চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা বা অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত নন। স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ওই কর্মচারী বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থীর স্ত্রী। তাঁদের মধ্যে একাধিক মামলা হয়েছে। তিনি সেটি সমাধানের উদ্যোগ নিয়েছিলেন।

বিশ্ববিদ্যালয়টির উপাচার্য মো. আলাউদ্দিন বলেন, শিক্ষককে হুমকি দেওয়ার বিষয়ে অভিযোগ তিনি পেয়েছেন। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

(কামনাশীষ শেখর, প্রথম আলো, ঘাটাইল ডট কম)/-

108total visits,2visits today