জাতীয় সংসদ নির্বাচন; সংলাপে সুশীল সমাজের ৬০ জনকে আমন্ত্রণ ইসির

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট বিষয়াদি নিয়ে ধারাবাহিক সংলাপ শুরু করতে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
আইন ও বিধিমালা সংশোধন, সংসদীয় আসনের সীমানা পুনঃনির্ধারণ আইনসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে রাজনৈতিক দল, সুশীল সমাজ, গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব, পর্যবেক্ষক, নারী নেত্রী এবং নির্বাচন বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে এই সংলাপ শুরু হচ্ছে।
এরই অংশ হিসেবে আগামী ৩১ আগস্ট সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে বসবে কমিশন।
রোববার সুশীল সমাজের ৬০ জন ব্যক্তিত্বকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে কমিশন।
সংলাপে পরামর্শ দেয়ার সুবিধার্থে আমন্ত্রণের সঙ্গে নির্বাচনের ম্যানুয়েল (আইন ও বিধিমালার সংকলন), গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, নির্বাচনের বিভিন্ন বিধিমালা পাঠানো হয়েছে।
কমিশন আশা করছে, এসব আইন ও বিধিমালা যুগোপযুগী করা এবং নির্বাচন ব্যবস্থা আরও  গ্রহণযোগ্য করতে সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা গুরুত্বপূর্ণ মতামত দেবেন।
ওই সব মতামতের মধ্যে যেগুলো গুরুত্বপূর্ণ- তা আমলে নেবে কমিশন।
ইসির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এসব তথ্য জানিয়েছেন।
সুশীল সমাজের যে ৬০ জনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে তার মধ্যে রয়েছেন- তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. আকবর আলী খান, সুলতানা কামাল, রাশেদা কে চৌধুরী, সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. কামাল, বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ, সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার ও বিশিষ্ট কলামিস্ট সৈয়দ আবুল মকসুদ প্রমুখ।
এদিকে সংলাপের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের বিদায়ী সচিব মোহাম্মদ আবদুল্লাহ রোববার নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের বলেন, নির্বাচনে স্টেকহোল্ডারদের মধ্যে সুশীল সমাজের সঙ্গে বৈঠকের মধ্য দিয়ে সংলাপ শুরু হতে যাচ্ছে। ইতিমধ্যে আমরা সুশীল সমাজের ৬০ জন প্রতিনিধিকে আমন্ত্রণ (ডিও) জানিয়েছি। তবে কমিশনের সিদ্ধান্ত দিলে আমন্ত্রিতদের সংখ্যা আরও কয়েকজন বাড়তে পারে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কর্মপরিকল্পনা গত ১৬ জুলাই প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
এতে সাতটি কর্মপরিকল্পনা (রোডম্যাপ) রয়েছে। এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ একটি হচ্ছে সংলাপ। আমরা কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন কার্যক্রম শুরু করেছি। এ সংলাপের উদ্দেশ্য হচ্ছে কীভাবে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু করা যায়।
সংলাপে কাদের আমন্ত্রণ জানানো হচ্ছে- এমন প্রশ্নের জবাবে বিদায়ী সচিব বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা, অর্থনীতিবিদ, কলামিস্ট, মিডিয়া ব্যক্তিত্ব, শিক্ষক, সিভিল সার্ভিসের প্রবীণ ব্যক্তিরা, সাবেক রাষ্ট্রদূত, সাবেক সচিবসহ যারা সমাজ ও রাষ্ট্রের কল্যাণে কাজ করেছেন তাদেরকে আমন্ত্রণ জানিয়েছি।
সংলাপের এজেন্ডায় কী থাকছে সে বিষয়ে তিনি বলেন, কর্মপরিকল্পনায় যে সাতটি বিষয় রয়েছে, তারমধ্যে সংলাপ ছাড়া বাকি ছয়টি বিষয়ে তাদের মতামত নেয়া হবে।
সংলাপের উঠে আসা মতামত কমিশন আমলে নেবে কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে সচিব বলেন, সংলাপে যেসব পরামর্শ আসবে সেগুলো নোট আকারে প্রতিবেদন তৈরি করা হবে। ওই প্রতিবেদন থেকে যেসব পরামর্শ বা প্রস্তাব গ্রহণ করার মতো সেগুলো আমলে নেয়া হবে।
অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপের সময় নির্ধারণ করা হয়নি।

 

(যুগান্তর, ঘাটাইল.কম)/-

167total visits,1visits today

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.