জাগো তারুণ্য, বৈষম্যহীন বাংলা‌দে‌শের জন্য

সময় আরা বাস্তবতার ব্যতয় বিশ্বব্যাপীই পা‌ল্টে দি‌য়ে‌ছে তারুণ্যের ম‌নোজগত। আমি বলছি না সে‌টি নে‌তিবাচক। আমা‌দের দে‌শেও আজকে তারুণ্য বা টি‌নেজার‌দের বাড়ি নি‌য়ে গে‌ছে সোশ্যাল মি‌ডিয়া‌, ‌বি‌শেষত ফেসবুক। এখন পাড়ার মো‌ড়ে ‘‌মে‌য়ে’ দেখা বখা‌টে‌দের উৎপাত যেম‌নি ঠাঁই নি‌য়ে‌ছে অনেকাংশে ফেসবু‌কে, ‌তে‌মনি প্রজ‌ন্মের ভাবনা, প্রতিবাদ আর নায্যতার আন্দোলনও।

প্লে গ্রু‌পের ভ‌র্তি পরীক্ষা থে‌কে শিশু‌টি‌কে আমরা শা‌মিল ক‌রি জিপি‌এ ফাই‌ভের প্রতিযোগিতায়। টা‌র্গেট অর্জ‌নের গোলপোস্ট ধ‌রে ধ‌রে অভিভাবক‌দের আঁকা প‌থে এগু‌লো আমাদের এখনকার প্রজ‌ন্মের বড় অংশ। তারা বড্ড স‌চেতন ভ‌বিষ্যত, ক্যা‌রিয়ার, আর্থিক নিরাপত্তা ইত্যা‌দি নি‌য়ে। অতিমাত্রায় এ স‌চেতনতার দরকার যে প্রচ‌লিত সময় ও সমাজ ব্যবস্থার প্র‌য়োজ‌নে খুব দরকারি নয়; তা বল‌ছি না। প্রজ‌ন্মের এ অতিমাত্রায় ব্যক্তিগত নিরাপত্তা বো‌ধের ভাবনাই বর্তমান সামা‌জিক সময়‌কে নিরাপদ কর‌ছে,‌ সে ভ্রা‌ন্ত বোধ পৌঁছে দেওয়া এ লেখার গন্তব্য নয় কোনোভা‌বেই। বরং রাষ্ট্র আর সমা‌জ তারুণ্যকে তার আগামীর নিরাপত্তা দি‌তে পার‌ছে না।

সমাজ ব্যবস্থায় বিরাজমান অনিয়ম আর অন্যায়ের চল‌তি ধারার অবসা‌নে এক‌টি সামা‌জিক বিপ্লব অনিবার্য ব‌লেই আমার দৃঢ় বিশ্বাস। আমা‌দের ম‌নোজগ‌তে আমরা বহু অন্যায্যতাকে স্বাভা‌বিক হি‌সে‌বে প‌রিগ‌নিত ক‌রে এক ধর‌নের স্বীকৃ‌তিই দি‌য়ে দি‌য়ে‌ছি। এই ধারা থে‌কে বে‌রি‌য়ে আসতে নৈ‌তিক জায়গা থে‌কে সামা‌জিক বিপ্ল‌বের কোনো বিকল্প নেই। আর সমাজ যে‌হেতু রাজনী‌তির দ্বারা তুমুলভা‌বে প্রভা‌বিত  সে কার‌ণে রাজ‌নৈ‌তিক গুণগত আর অর্থবহ প‌রিবর্তন দরকার সবার আগে।

দ্ব্যর্থহীনভা‌বে বিশ্বাস ক‌রি আওয়‌ামী লীগ, ‌বিএন‌পি বা এসব ক্ষমতার রাজনী‌তির দ‌লগু‌লোর ক্ষমতার পালাবদ‌লে কোনভা‌বেই নূন্যতম সামা‌জিক সাম্য বা ন্যায্যতা আসবে না। এর জন্য প্র‌য়োজন এক‌টি অর্থবহ ইতিবাচক দীর্ঘমেয়াদী প‌রিবর্তন।

স্বাধীনতার এত বছর পরও আমরা নির্বা‌চিত সরকারগু‌লো ক্ষমতা কার কা‌ছে ছে‌ড়ে যা‌বে সেই  প্লাটফর্মই তৈরি কর‌তে পা‌রি‌নি। যে দে‌শে গ্রহণযোগ্য এক‌টি ধারাবা‌হিক নির্বাচন ব্যবস্থা এখ‌নো দে‌শে গ‌ড়ে না উঠায় ন্যায্যতার সামা‌জিক মুল্যবোধ এখন ভ‌ীষণভা‌বে সমাজ ব্যবস্থায় অনুপ‌স্থিত। ইনসাফ, ন্যায় ও সাম্য প্রতিষ্ঠায় সম‌য়ে সম‌য়ে সমা‌জের সংস্কার অ‌নিবার্যতা পায়। সেই সংস্কা‌রে মূল অনুঘটক তারুণ্য। বাংলা‌দেশ এখন দেশ‌টির জ‌ন্মের সময় থে‌কে ধর‌লে সব‌চে‌য়ে সোনালী আর স্বর্ণালী সময় পার কর‌ছে। এদে‌শের মোট জনসংখ্যার সব‌চে‌য়ে বে‌শি এখন তরুণ প্রজন্ম। তবুও উদাহরণীয় কোনো ব্যা‌তিক্রম না ঘট‌লে আমি এদেশে কোনো সামাজিক বিপ্ল‌বের আগামী দু’দশ‌কে কোনো স্বপ্ন দে‌খি না। অথচ ৫২,৬৯,৭১ সহ বাংলা ও বাঙালির বৃহত্তম সব অর্জনই এ‌সেছে তারু‌ণ্যের হাত ধ‌রে। জন আন্দোলনেও নেতৃত্ব দি‌য়ে‌ছে ছাত্রসমাজ। ইতিহাস তার সাক্ষী।

৯০-এর স্বৈরাচার পরবর্তী সরকারগু‌লো আন্দোলন এড়া‌তে, ক্ষমতা হারাবার শংকা থে‌কে অত্যন্ত স‌চেতনভা‌বে এদে‌শে কোনো ছাত্র আন্দোলন গড়ে উঠ‌তে দেয়‌নি। প্রতিবাদী তা‌রুণ্যকে সু‌বিধার দা‌মে কেনা‌বেচার রী‌তি শুরু হ‌য়ে‌ছে দে‌শে স্ব‌াধীনতার পর হ‌তেই। আর এখন ভয় দে‌খি‌য়ে, ‌চোখ তু‌লে নি‌য়ে আন্দোলনকারীদের শা‌য়েস্তা ক‌রে সরকারি পে‌টোয়া বা‌হিনী। এভা‌বেই যু‌গে যু‌গে যে তারুণ্য প‌রিবর্ত‌নের নিয়ামক স্প‌ন্দিত স্ফু‌লিঙ্গ হবার কথা ছিল তারা হ‌য়ে‌ছেন ক্ষেত্র‌বি‌শে‌ষে ক্ষমতার নিয়ামক। ক্ষমতার নী‌তি‌নির্ধারকরা স‌চেতনভা‌বেই তারুণ্য ম‌ধ্যে শ্রেণীগত সাম্যহীনতা সৃ‌ষ্টির সু‌যোগ ক‌রে ঐক্যবদ্ধ হ‌তে দেয়‌নি। তবুও ৯০ পর্যন্ত তারুণ্য রাষ্ট্রের অর্থবহ প‌রিবর্ত‌নের কথা কথা ব‌লে‌ছে সমস্বরে।

সময়-স্বজন-স্ব‌দেশ যখন করে‌ছে অশ্রুযাপ‌ন তখন সে সম‌য়ের তারুণ্য কখ‌নোই ক‌রে‌নি  শুধুমাত্র ভাল থাকার ব্যক্তিগতকরণ। কিন্তু এরপর থে‌কে তারুণ্য ক্রমে যতটা হ‌য়ে‌ছে আত্মকেন্দ্রীক ততটাই দূরে চ‌লে গে‌ছে সামা‌জিক সাম্য আর ইনসাফ প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন।

ইতিহাস ঢেকে দেওয়া অপতৎপরতার ধারায় আমাদের তারুণ্যকে ভু‌লি‌য়ে দেওয়া হ‌য়ে‌ছে তারু‌ণ্যের প্রজ্জ্বল ইতিহাস। আমরা ভু‌লে গে‌ছি, প্রকারান্ত‌রে অস্বীকার ক‌রি পুর্বসূরী‌দের। ‌দুঃশাসন আর অন্যা‌য়ের প্রতিবাদে যারা বু‌কের র‌ক্তের লি‌খে গে‌ছেন অসাম্প্রদা‌য়িক শিক্ষানী‌তির স্বপ্নে বাংলা‌দে‌শের নাম; তা‌দের ভ‌ু‌লে গে‌ছি আমরা। স্বৈরতান্ত্রিক এরশাদ সরকারের প্রবর্তিত গণবিরোধী ও সাম্প্রদায়িক শিক্ষানীতির বিরুদ্ধে ছাত্রসমাজের প্রতিরোধ আর তাদের অনেকের আত্মদানের ঘটনা, আজ বিস্মৃত অতীত। আমরা ভু‌লে গে‌ছি ১৪ ফেব্রুয়ারি ১৯৮৩।

অসংখ্য প্রাণের আত্মত্যা‌গে আন্দোলনটি প্রজ‌ন্মের র‌ক্তের দা‌মে সফল হয়। আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে ছাত্রদের তিনটি মৌলিক দাবির সংগ্রামে মজিদ খানের শিক্ষানীতি স্থগিত হয়। এরশাদের সামরিকতন্ত্রের অবসান না হলেও ঘরোয়া রাজনীতির অধিকার দিতে বাধ্য হয় এরশাদ, আন্দোলনের সামনে সামরিক স্বৈরাচার মাথা নত করে। তারপর থেকেই ১৪ ফেব্রুয়ারি স্বৈরাচার প্রতিরোধ দিবস হিসেবে পালন করা হতো। অন্তত ছাত্রসংগঠনগু‌লো দিন‌টি পালন কর‌তো। অথচ এত বড় একটা ঘটনা আমাদের এ নতুন প্রজন্মকে জানতেই দেওয়া হয়নি। উল্টো ইতিহাসকে মু‌ছে দেওয়া আর অস্বীকার করার ষড়য‌ন্ত্রের ধারাবা‌হিকতায় চা‌পি‌য়ে দেয়া হ‌য়েছে ক‌থিত ভালোবাসা দিব‌সে।

ক্ষমতার ভাগভা‌টোয়ারার পক্ষগু‌লো সু‌কৌশ‌লে এ প্লাস প্রজন্ম সৃ‌ষ্টি কর‌ছে,মানস সৃ‌ষ্টির জায়গা‌টি এ‌ড়ি‌য়ে। প্রজন্ম‌কে ভ‌বিষ্যতের ঘোরট‌পে বে‌ঘোর ক‌রে ক্ষমতার রাজনী‌তি‌কে ক‌রে গে‌ছে সংহত। ছাত্রদের এখন আর ন্যায্য কোনো আন্দোলন কর‌তে দেওয়া হয় না এ পু‌লি‌শি রা‌ষ্ট্রে। ভয়-ভী‌তি দেখা‌নো হয়। ছাত্র সংসদগু‌লোর নির্বাচন হয় না দশ‌কের পর দশক।

অনলাইন আর স্যোশাল মি‌ডিয়ার আন্দোলনের ধ্বনি দে‌শে দে‌শে তারুণ্যকে রাজপ‌থে নামা‌চ্ছে। আর আমাদের দে‌শে অনলাই‌নে ছড়া‌নো হয় যে‌কোন ইস্যু‌তে বিভাজন। যা‌তে তারুণ্য কখ‌নো ঐক্যবদ্ধ না হ‌তে পা‌রে। রাষ্ট্র তার ক্ষমতার নিরাপত্তায় চায় গোল্ড‌ফিস মে‌মো‌রির তারুণ্য। আধুনিক ক্যা‌মেরার নান্দ‌নিক প্রোফাইল ছ‌বির নি‌চে চাপা প‌ড়ে যা‌চ্ছে যা‌পিত বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি।

বাইক, গা‌ড়ি আর র‌ঙ্গিন চশমার পুঁজিবাদ ব্যা‌ক্তিগত সু‌বিধাবা‌দের জন্ম দি‌য়ে সৃ‌ষ্টি কর‌ছে পুঁজিবাদের বিব‌াদ। ফেসবুক আজকের তারুণ্যকে নি‌য়ে গে‌ছে বেডরু‌মে স্ট্যাটাস ইনব‌ক্সে কাটাকা‌টির খেলায়। ব্যক্তিগত সংক‌টে ভালোবাসায় আস্থা অনাস্থায় জেরবার জীবন।

দুই

আমাদের শাষকরা শোনায় কেবল উন্নয়‌নের মহাসাগর আর সূচ‌কের পুর‌নো গল্প। কম গণতন্ত্র আর বেশি উন্নয়নের নবতর এক কনসেপ্ট পাবলিককে খাওয়ানোর চেষ্টা চলছে এ কয়েক বছর ধরে।

শাসকের অন্যায্য আচরণ, অদ্ভুত বৈপরীত্য আর কেবলমাত্র ক্ষমতার জন্য নগ্ন আস্ফালনে আক্রান্ত এই সময়। পেছনে তাড়া করা গত সরকারের বাংলা ভাই, গ্রেনেড বোমার ভয়াল বিস্মৃ‌তি। সরকারের অন্যায় আচরণের সমালোচনা করলে সরকারের সুবিধাভোগীরা বলেন,ভাই আপনি তো বিএনপি-জামাতের দুঃশাসনের সমালোচনা করছেন না। বিএনপি তো বহুদিন ধরে সরকারে নেই, নেই বিরোধীদলে এমনকি রাজপথেও। কার্যত দলটি এখন রাজনৈতিকভাবে পক্ষাঘাতগ্রস্ত। দেশে কার্যত কোনো বিরোধীদল না থাকবার কারণে সবকিছু এখন একঅর্থে এক-পাক্ষিক। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকেও দেখছি ভিন্ন রাজনৈতিক মতাবলম্বীদের সাথে ঘোষণা দিয়ে বন্ধুত্ব ত্যাগ করছেন। হুম‌কি দি‌চ্ছেন ভিন্নম‌তের মানুষ‌দের। মতের ভিন্নতা থাকতেই পারে,তার জের ধ‌রে কেন বিভাজন হবে বন্ধুতায়।  আর কতটা আমরা বন্দি হব মানসিকতার ক্ষুদ্রতায়, দল বা মতের লেজুড়ের বৃত্তে, চিত্ত থেকে চিত্তে; এসব খুব ক‌রে ভাবায়।  রামপা‌লে, রূপপুরে ভয়াবহ ঝুঁকির প্রকল্প, সমুদ্র উপকূল জুড়ে বিভিন্ন দেশের ভাগাড় বানানোর নামে বড় প্রজেক্ট-বড় কমিশনের সরকারের হাত ধরে রাষ্ট্রের সম্পদ লুণ্ঠনের সমালোচনার যখন কোনো জবাব মেলে না, তখন সমালোচনাকারী হয়ে যায় ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পরিপন্থী।’ চেতনার কী মহাজাগতিক বাণিজ্য চলছে দেশময়। অবশ্য ন্যায়হীনভা‌বে অধি‌ষ্টিত সরকা‌রের কা‌ছে ন্যায় আচরণ আশা করাটাও বোধ ক‌রি অন্যায়।

আমাদের ভ্রষ্ট দলবাজির দলীয় রাজনীতির আনুগত্য না করা মানে তো সুবিধা অথবা ক্ষমতা ভাগাভাগির ভারসাম্য নয়। দলীয় আনুগত্যের বলয় বৃত্তের বাইরে দাড়িয়েও দেশের জন্য মানুষের জন্য রাজনীতি করা সম্ভব। কিন্তু আমাদের বাস্তবতায় দলবাজির বড় সাইন বোর্ডের প্লাটফর্মের বাই‌রে  রাজনীতি করার চিন্তা করাকেও আমাদের ক্যারিয়ার রাজনীতিবিদেরাও রীতিমত অপরাধ বলে মনে করেন। অথচ দলীয় রাজনীতির নগ্ন আস্ফালনের চাকর না সাজবার মানে কিন্তু, দিনে আওয়ামী লীগ আর রাতে বিএনপি নয়। দল নিরপেক্ষতা মানে আমাদের দ্বি-ধারার বা দ্বি-দলীয় রাজনীতির বাইরে থেকে বাংলাদেশ রাষ্ট্রের প্রতি, দেশমাতৃকার প্রতি জন্মদায় শোধ করবার প্রয়াস। দলীয় রাজনীতি না করা মানে নিজের বোধ আর বিবেকের কাছে সচ্ছ থেকে নষ্ট রাজনীতির অন্ধ গলির ভন্ড রাজনীতির সমালোচনা করবার, প্রতিবাদের সৎ সাহস প্রজ্জ্বলিত রাখা। দলবাজি না করা মানে সরকারের হাতে রাষ্ট্রের ক্ষতির বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার পথটুকু রুদ্ধ না করা।

কিন্তু, দুঃখজনক হলেও সত্য, আজকের বাংলাদেশে প্রক্ষক বা পরোক্ষভাবে দলবাজির রাজনীতির সাথে সম্পর্ক-সম্পৃক্ততা না থাকলে সুযোগ-সুবিধা তো দুরের কথা নায্য বা প্রাপ্যটুকুনও পাওয়া অসম্ভব। এ কারণেই বোধকরি, জীবনভর সততা আর ন্যায়ের সংগ্রামে ব্যাপৃত বামেরাও শেষার্ধে এসে জীবনের দায়ে অন্ধ ডানে মোড় নেন। ভ্রষ্ট বামেদের অন্ধ ডানের মিছিলের সংকীর্ণতায় শামিল হওয়ার বাস্তবতা আমাদের উপমহাদেশে বা দেশে এ কারণেই বিরলপ্রজ তো নয়ই বরং সুসহনীয়। কৃষক থেকে সাংবাদিক, চিকিৎসক থেকে রিক্সাচালক সব শ্রেণী পেশার মানুষদের যে রাষ্ট্রে অন্ধ দলীয় আনুগত্যের বদ্ধ ডোবায় ডুবতে হয় সেখানে দলবাজি না করা মানে হয় পাগল নয়তো শিশু।

দল নিরপেক্ষতা এখনকার বাংলাদেশের বাস্তবতায় রীতিমত অপরাধ। এ অপরা‌ধে চি‌ত্রিত আর বিকৃত কর‌তে স‌চেষ্ট সরকার, ‌বি‌রোধীদলগু‌লো সবসময়। এদেশে এখন ছাত্র‌নেতারা শত কো‌টি টাকার মা‌লিক, মা‌সোহারাও পান প্রধানমন্ত্রীর কাছ থে‌কে। তারুণ্য সারারাত জে‌গে থা‌কে প্রেম নয়‌ত আনুগত্যের বাণী বন্দনায় নেতার ত‌রে পুঁজিবা‌দের অনলা‌ইন ওয়া‌লে। মধ্য দুপু‌রে ভোর হওয়া হতাশা-উচ্চাশা‌বিলাসী, আমু‌দে তারুণ্য যা‌পিত অন্ধকার‌কে হঠাৎ এক‌দিন পা‌ল্টে দে‌বে, সে সপ্ন নেহাৎই জে‌গে ঘুমা‌নো তন্দ্রার।

আওয়ামী লীগ-বিএনপি-জামায়াত-জাতীয় পার্টি আর ডান বাম চিহ্নিত করে ছোট্র এই দেশটাতে বিভেদের বিভাজন বাড়ানো যায়। কিন্তু এসবের বাইরে এসে আমরা সবাই বাংলাদেশি, সবার আগে দেশ-দেশের স্বার্থ ভেবে দলীয় বিভাজনের বাইরে এককাতারে দাঁড়াবার কেন আহ্বান আসে না? কেন অন্ধ ডানের বায়ে আর ভ্রষ্ট বামের ডানে; কেবল বাংলাদেশের পক্ষে আমরা দাড়াতে পারি না? সেই আহ্বানের আশাবাদ বুকে পথ চেয়ে রই?

স্বাধীন দেশে কেবল ক্ষমতার জন্য পতিত অথবা রাজনৈতিক পতিতা প্রৌড়-পতিত স্বৈরাচার ডিগবাজ এরশাদের কদর (!) দেখে লজ্জিত হই, আইন-আদালতের নামে বে-আইনী শাসনে আক্রান্ত হই। মানুষ পুড়িয়ে মারার বিভীষিকায় বিহব্বল হই, বিরোধীদলের কর্মীদের রাস্তায় এতিমের মত মার খেতে পাঠিয়ে নেতাদের পলায়নপরতায় লজ্জিত হই…। কিন্তু হায় তবু লজ্জা বোধ করেন না আমাদের রাজনীতিকরা। হে পরম করুনাময় আমাদের রাজনীতিবিদদের `লজ্জিত‘ বোধ করবার বোধদয় টুকু কেবল উদয় করে দাও…।

যত‌দিন তারুণ্য না জাগ‌বে এ‌দেশে জনগ‌ণের উপর রাষ্ট্রীয় নির্যাতনের অন্ত না হবে না জা‌নি। চল‌বে নিপীড়ন অন্য কোনো খা‌নে, নতুন কোনো না‌মে। লেখা‌টি যখন লিখ‌ছি, তখন হৃদ‌য়ে বারবার অনুর‌ণিত হ‌চ্ছে এক‌টি কথা। আজকের বাংলা‌দে‌শে বু‌দ্ধিবেশ্যা আর বু‌দ্ধি প্রতিবন্ধী দলবাজ‌দের দাপ‌টে বাংলা‌দেশের প‌ক্ষে, রা‌ষ্ট্রের প‌ক্ষের নৈ‌তিক মানুষগুলোর, চেতনার বাতিওয়ালার বড্ড অভাব।  নষ্ট রাজনী‌তির এ ধারা থে‌কে মুখ ফি‌রি‌য়ে নি‌য়ে‌ছে আজ তারুণ্য। কেউ সাহস ক‌থা বল‌তে গেলেও হয় নে‌মে আসে নির্যাতন। নয়তো তা‌কে চি‌ত্রিত করা হয়, লাগা‌নো হয় দলবা‌জির ট্যাগ। ন্যায়হীনতা এ ধারা এক‌দি‌নে প্র‌তি‌ষ্টিত হয়‌নি। তেম‌নি স‌ন্মি‌লিতভা‌বে যত‌দিন তারুণ্য না জাগ‌বে, তত‌দিন এ ধারার অবসানও হ‌বে না। এক‌দিন তারু‌ণ্যের আলোধারায় উজ্জল হ‌বে য‌া‌পিত সব অন্ধকার, ‌সে আশাবাদ চাষ ক‌রে চ‌লি হৃদয় অঞ্চ‌লে। আশাবাদটুকু হারা‌লে কী ই বা থা‌কে আর থাকবার।

 

‌(লেখক : সদস্য রাইটার্স গ্রীল্ড অব গ্রেট ব্রি‌টেন, যুক্তরাজ্য/ পরিবর্তন/ ঘাটাইল.কম)/-

155total visits,2visits today

Leave a Reply