চলাচল বন্ধ,,রেললাইন তলিয়ে গেছে,

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় পানি আরও ১৪ সেন্টিমিটার বেড়ে গোয়ালন্দ পয়েন্টে গতকাল শুক্রবার সকাল ৬টায় বিপৎসীমার ১০৬ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। পানিতে গোয়ালন্দ বাজার থেকে দৌলতদিয়া ঘাট রেললাইনের দুই কিলোমিটার অংশ তলিয়ে থাকায় বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে এই পথে ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে। এ ছাড়া পৌরসভার চারটি ওয়ার্ডে পানি প্রবেশ করায় নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হয়েছে।

গতকাল শুক্রবার দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, গোয়ালন্দ বাজারের পর রেলসেতু থেকে দুই কিলোমিটার এলাকার রেললাইন পানিতে তলিয়ে গেছে। কেন্দ্রীয় মহাশ্মশান রেলসেতু দিয়ে প্রবল বেগে পানি ঢুকে পড়ায় ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে সেতুটি। এ ছাড়া পানির¯স্রোতে রেললাইনের স্লিপারের নিচের মাটি সরে যাওয়ায় লাইনটি দুর্বল হয়ে পড়ছে। রেলওয়ের কর্মচারীরা রেলওয়ে সেতু ও লাইন ঠিক রাখতে সকাল থেকে বিভিন্ন স্থানে বালুভর্তি বস্তা ফেলছেন। রেললাইনের পাশ দিয়ে অবস্থিত গোয়ালন্দ পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের রেলওয়ে কলোনিপাড়ার অধিকাংশ বাসিন্দার ঘরে বন্যার পানি ঢুকে পড়েছে। এ ছাড়া ১, ২ ও ৫ নম্বর ওয়ার্ডেও পানি প্রবেশ করায় অধিকাংশ পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। গতকাল দুপুরে রেলওয়ে পাকশির বিভাগীয় প্রকৌশলীসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের একটি প্রতিনিধিদল রেললাইন ও সেতু ঘুরে দেখেন।

পরিদর্শন প্রতিনিধিদলের প্রধান পাকশির বিভাগীয় প্রকৌশলী রিয়াদ হোসেন গতকাল বেলা দুইটার দিকে প্রথম আলোকে বলেন, পানির স্রোতের কারণে রেললাইনের ১২ নম্বর সেতুটি ঝুঁকির মুখে রয়েছে। পানি যদি আর না বাড়ে, তাহলে খুব বেশি ক্ষতির হওয়ার আশঙ্কা নেই।

গোয়ালন্দ বাজার রেলওয়ের অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত স্টেশনমাস্টার লিয়াকত আলী খান বলেন, প্রতিদিন গোয়ালন্দের দৌলতদিয়া ঘাট থেকে সকাল সোয়া সাতটার দিকে কুষ্টিয়ার পোড়াদহের উদ্দেশ্যে ‘শাটল ৫১৫/৬’ ট্রেন ছেড়ে যায়। বেলা সোয়া একটার দিকে খুলনার উদ্দেশ্যে ‘নকশিকাঁথা এক্সপ্রেস’ মেইল ২৫ আপ বা ২৬ ডাউন ট্রেন এবং পৌনে তিনটার দিকে রাজশাহীর উদ্দেশ্যে ‘মধুমতী এক্সপ্রেস’ ট্রেন ছেড়ে যায়। বৃহস্পতিবার দুপুরে খুলনার উদ্দেশ্যে নকশিকাঁথা ট্রেনটি ছেড়ে যাওয়ার পর লাইনে পানি উঠে গেলে মাটি নরম হয়ে যাওয়ায় আর কোনো ট্রেন দৌলতদিয়া ঘাটে পৌঁছাতে পারেনি। গোয়ালন্দ থেকে দৌলতদিয়া ঘাটের সরাসরি ট্রেন যোগাযোগ বন্ধ হয়ে পড়ায় অনেক যাত্রী বিপাকে পড়েছেন।

এদিকে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন সংস্থা (বিআইডব্লিউটিসি) দৌলতদিয়া কার্যালয়ের ব্যবস্থাপক শফিকুল ইসলাম বলেন, প্রচণ্ড স্রোতের কারণে বর্তমানে ৪ নম্বর ঘাটে কোনো ফেরি ভিড়ছে না। এ ছাড়া ১ নম্বর ঘাটের সংযোগ সড়কের মাঝামাঝি অংশ তলিয়ে গেছে। তলিয়ে যাওয়া সড়ক দিয়েই যানবাহন ফেরিতে ওঠানামা করছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. হাসান হাবীব বলেন, পানিবৃদ্ধি অব্যাহত থাকলেও পর্যাপ্ত ত্রাণ রয়েছে। বন্যাকবলিত দেবগ্রাম ইউনিয়নের মুন্সিবাজার ও তেনাপচা এলাকায় বৃহস্পতিবার বিকেলে বন্যার্ত মানুষের মাঝে দুই মেট্রিক টন চাল ও এক লাখ টাকা বিতরণ করা হয়। এ সময় রাজবাড়ী-১ আসনের সাংসদ কাজী কেরামত আলী, জেলা প্রশাসক মো. শওকত আলী, পরিষদের চেয়ারম্যান এ বি এম নুরুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। গতকালও অন্যান্য ইউনিয়নের বন্যার্ত মানুষের মাঝে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয়।

180total visits,2visits today

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.