ঘাটাইল থানা পুলিশের বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ

আতিকুর রহমান, ঘাটাইল: মাদক বিরোধী অভিযানের নামে সাধারন জনগনকে হয়রানি, চাঁদাবাজি, ঘুষ, দুর্নীতিসহ ঘাটাইল থানা পুলিশের বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে আইনশৃঙ্গলা কমিটির সভায় উপজেলা আওয়ামীলীগের আহবায়কসহ কমিটির অন্যন সদস্যরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বক্তব্য প্রদান করেছেন।

প্রায় ০২ মাস আগে ঘাটাইল থানার যোগদান করেন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মহিউদ্দিন পিপিএম। তিনি যোগদানের পর থেকেই মাদকবিরোধী অভিযানে নামেন। কিছু দিন যেতে না যেতেই তার এই মাদক বিরোধী অভিযান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। মাদক বিরোধী এই অভিযানকে পুজি করে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন নানাবিধ ঘুষ দুর্নীতি অনিয়ম ও চাদাবাজিতে জড়িয়ে পড়েছে। অনেক নিরিহ জনগন হচ্ছে হয়রানির শিকার।

গত ১৭ জুলাই আইনশৃঙ্গলা কমিটির সভায় উপজেলা আওয়ামীলীগের আহবায়ক শহিদুল ইসলাম লেবু জানান, উপজেলার পেচারআটা গ্রাম থেকে মাদক ব্যবসায়ি হিসাবে আটক করা হয় মুজাহিদ নামে এক ব্যবসায়িকে আটক করা হয়, অথচ তাকে আদালতে প্রেরন করা হয় অন্য মামলায়। মুজাহিদের পরিবার ও রসুলপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান তোফাজ্জল হক সেন্টু জানান, সে কখনই মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত নয়। তাকে মিথ্যা অভিযোগে গ্রেপ্তার করে মোটা অংকের টাকা দাবী করা হয়। টাকা না দেয়ার কারনে তাকে ডাকাতি ও অস্ত্র মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে জেলহাজতে প্রেরন করা হয়।

গত ১১ জুলাই উপজেলার সাগরদিঘী বাজার এলাকার এক ব্যবসায়ি আক্তার হোসেনকে এএসআই মুসফিক তাকে বাসায় ডেকে নিয়ে গিয়ে ০৩ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবী করে। চাঁদা না দেয়ার কারনে তাকে মাদক ব্যবসায়ি হিসাবে সাজানো মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়। আক্তারের বাবা আঃ ছাত্তার জানান, মামলায় রিমান্ডের ভয় দেখিয়ে ৬০ হাজার টাকা নেন এএসআই মুসফিক।

একই কায়দায় উপজেলার কাশতলা গ্রাম থেকে জুয়া খেলার সময় আটক করা হয় দিগড় ইউনিয়নের সাবেক মেম্বার আঃ রউফ গুডুকে। তার পরিবারের দাবী টাকা না দেয়ার কারনে তাকে ডাকাতির প্রস্তুতি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে জেলহাজাতে প্রেরন করা হয়।

সম্প্রতি লোকেরপাড়া ইউনিয়নের গৌরিশ্বর এলাকা থেকে মোটরসাইকেলসহ দুই মোটরসাইকেল আরোহীকে আটক করে মাদক মামলার ভয় দেখিয়ে তাদের কাছ থেকে আদায় করা হয় ৬০ হাজার টাকা। তিনি এসব ঘটনার সুষ্ঠ তদন্ত দাবী করেন।

কমিটির অন্যান্য সদস্যরাও এ বিষয়ে বক্তব্য রাখেন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের দাবী জানান।

এ ছাড়া ঘাটাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নিয়ম বহির্ভূতভাবে থানা এলাকার সরকারি গাছ কাটার অভিযোগ রয়েছে।

এ ব্যাপারে ঘাটাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মহি উদ্দিন পিপিএম এর কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, যদি কেউ অন্যায় করে থাকে তবে তাদের বিরুদ্ধে অবশ্যই বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। চেয়ার টেবিল বানানোর জন্য কতৃপক্ষের মৌখিক অনুমতি নিয়েই গাছ কাটা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের কোন ভিত্তি নেই বলে তিনি জানান।

 

(ঘাটাইল.কম)/-

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।