ঘাটাইল অঞ্চলে ১৮৬১ সালে পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপিত হয়ে ১৯০৬ সালে ঘাটাইল থানায় উন্নীত হয়

ঘাটাইল উপজেলা বাংলাদেশের টাঙ্গাইল জেলার অধিভুক্ত একটি প্রশাসনিক এলাকা। বাংলাদেশের আধুনিকতম সেনানিবাসটি উপজেলা সদরের অদূরে অবস্থিত। এটি একটি কৃষিপ্রধান এলাকা। বর্তমানে এখানে গার্মেন্টস কারখানাসহ বেশ কয়েকটি কারখানা গড়ে ওঠছে।

 

ঘাটাইল উপজেলার অবস্থান ২৪°২৩´ থেকে ২৪°৩৪´ উত্তর অক্ষাংশ এবং ৮৯°৫৩´ থেকে ৯০°১৫´ পূর্ব দ্রাঘিমাংশ। এবং আয়তন: ৪৫১.৭১ বর্গ কিলোমিটার। এর উত্তরে গোপালপুর ও মধুপুর উপজেলা, দক্ষিণে কালিহাতি ও সখিপুর উপজেলা, পূর্বে ফুলবাড়িয়া ও ভালুকা উপজেলা, পশ্চিমে ভুঞাপুর ও গোপালপুর উপজেলা।

 

ঘাটাইল নামের জনপদটি যে ভূমির উপর গড়ে ওঠেছে তা ‘মধুপুর কর্দম’ নামক আদিম প্রস্তর দ্বারা গঠিত। তবে সবটুকু নয়। উত্তর-দক্ষিণে বিস্তৃত গেরুয়া বর্ণের টিলাভূমিটি এ প্রাগৈতিহাসিক যুগের স্বাক্ষ্য বহন করে। এই অংশটুকু ধলাপাড়া, রসুলপুর, সন্ধানপুর ও দেওপাড়া ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত। এর বিস্তিৃতি উত্তরে দেওজানা থেকে দক্ষিণে দেওপাড়া পর্যন্ত। পূর্বপ্রান্তে রাধাকৃষ্ণের স্মৃতি বিজড়িত গুপ্তবৃন্দাবন এই টিলাভূমিতেই অবস্থিত। টিলাটি ক্রমশ নিচু হয়ে ঘাটাইল উপজেলা সদর থেকে ০২ কিলোমিটার পূর্বে ঝড়কা বাজারের কাছে এসে উত্তর দক্ষিণে পলল বিস্তৃত ভূমিতে মিশে গেছে। এই পলল ভূমি তুলনামূলকভাবে নবীন। অনুমান করা হয় বয়স ০২ হাজার বছরের কম হবে।

 

ঘাটাইল অঞ্চলে ১৮৬১ সালে পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপিত হয়ে ১৯০৬ সালে ঘাটাইল থানায় উন্নীত হয়।

 

ঘাটাইলে গ্রাম ৪২৭টি, ইউনিয়ন ১৪টি, পৌরসভা ১টি ও মৌজা ৩০৬টি। ঘাটাইল উপজেলায় ১৪টি ইউনিয়ন হচ্ছেঃ দেউলাবাড়ী, ঘাটাইল, জামুরিয়া, দিগড়, দিঘলকান্দি, আনেহলা, দেওপাড়া, ধলাপাড়া, সন্ধানপুর, লোকেরপাড়া রসুলপুর, এবং নতুন ইউনিয়ন ৩টি সংগ্রামপুর, সাগরদিঘী, লক্ষিন্দর ইউনিয়ন।

 

ঘাটাইল উপজেলার মোট জনসংখ্যা ৪,৩৪,৩০০ জন। এর মধ্যে পুরুষ ২,১৩,৫২৬ জন এবং মহিলা ২,২০,৮০৪ জন। মোট জনসংখ্যার ৯৫.৪% মুসলিম, ৩.৪% হিন্দু এবং ১.২% অন্যান্য ধর্মালম্বী। উপজেলায় মোট ভোটার ২,৮৬,২০৭ জন। পুরুষ ভোটার ১,৪১,৬২৪ এবং মহিলা ভোটার ১,৪৪,৫৮৩ জন। উপজেলায় মোট ১,০৪,০৩০টি পরিবার রয়েছে।

 

উপজেলার মানুষদের সাক্ষরতার হার ৪৪%।

 

কলেজের সংখ্যা ০৭টি (মহিলা কলেজ ০১টি)। ফাজিল মাদ্রাসা ০৫টি। দাখিল মাদ্রাসা ২৭টি। এবতেদিয়া মাদ্রাসা (স্বতন্ত্র ও এমপিও ভূক্ত) ১২টি। সরকারি প্রাথ্যমিক বিদ্যালয়: ১৫৯টি। উচ্চ মাধ্যমিক সংলগ্ন প্রাথমিক বিদ্যালয় ০৪টি। রেজিষ্টার প্রাথ্যমিক বিদ্যালয় ১৭টি। নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় ০৬টি। উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় (বালক) ৩৬টি। উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় (বালিকা) ০৭টি।

 

দর্শনীয় স্থানের মধ্যে রয়েছে সাধূর গলগন্ডা পূর্বচড়া দিঘি, সাগরদীঘি, গুপ্তবৃন্ধাবন, মাকেশ্বর নদী, শালিয়াবহ গজারী এবং সেগুন বাগান, সন্ধানপুর বনাঞ্চল, দেওপাড়া আম্রকানন ও বনাঞ্চল, সাইট শৈলা জামে মসজিদ অন্যতম।

 

(অনলাইন থেকে… ঘাটাইল.কম)/-

144total visits,1visits today

Leave a Reply