ইন্টারন্যাশনাল চ্যাম্পিয়ন অ্যাওয়ার্ড পেলেন সায়মা ওয়াজেদ

অটিজম আক্রান্তদের কল্যাণে নিরবচ্ছিন্ন ও উদ্ভাবনী কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ ‘ইন্টারন্যাশনাল চ্যাম্পিয়ন অ্যাওয়ার্ড’-এ ভূষিত হয়েছেন সায়মা ওয়াজেদ হোসেন। সিমা কলাইনু নামে নিউইয়র্কভিত্তিক একটি শিশু অটিজম কেন্দ্র ও স্কুল অটিজম আক্রান্ত ব্যক্তিদের কল্যাণে নিরবচ্ছিন্ন ও উদ্ভাবনীমূলক কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ সায়মা ওয়াজেদকে এই পুরস্কার দেয়।  বুধবার (২৬ জুলাই) জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে একথা বলা হয়।

সিমা কলাইনু ১৯৯৮ সালে প্রতিষ্ঠিত নিউইয়র্কের প্রথম শিশু অটিজম কেন্দ্র ও স্কুল। প্রতিষ্ঠানটি নিউইয়র্কের ৫টি পৌর এলাকার অটিজম স্পেকট্রাম ডিসঅর্ডারে আক্রান্ত হাজারেরও বেশি শিশুকে হোম সার্ভিস দিয়ে আসছে। সায়মা ওয়াজেদের পক্ষে পদকটি গ্রহণ করেন জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন। মঙ্গলবার (২৫ জুলাই) প্রিন্সটন ক্লাব অফ নিউইয়র্কে আয়োজিত সিমা কলাইনু এবং এর আন্তর্জাতিক সহযোগী প্রতিষ্ঠান ‘আই কেয়ার ফর অটিজম’ এর বার্ষিক প্রাতঃরাশ অনুষ্ঠানে এ পদক প্রদান করা হয়।

অনুষ্ঠানে সায়মা ওয়াজেদের একটি সংক্ষিপ্ত বার্তা পাঠ করেন রাষ্ট্রদূত মোমেন। বার্তায় সায়মা বলেন, ‘অটিজম সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান সিমা কলাইনু’র এই স্বীকৃতির জন্য আমি সম্মানিত বোধ করছি। সিমা কলাইনু’র মতোই বাংলাদেশসহ এশিয়া অঞ্চলে এ সংক্রান্ত পেশার মানুষের জন্য পরিকল্পিত ও ব্যাপকভিত্তিক প্রশিক্ষণের সুযোগ সৃষ্টিতে আমি কাজ করছি। অটিজম কোনও ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক ও আর্থ-সামাজিক সীমারেখার মধ্যে আবদ্ধ নয়। এ কারণেই এর জন্য বিশেষ ধরনের সেবা ও কর্মসূচির প্রয়োজন রয়েছে।’

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ক এ্যাডভাইজরি প্যানেলের বিশেষজ্ঞ, বাংলাদেশের অটিজম বিষয়ক জাতীয় উপদেষ্টা কমিটির সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মেয়ে সায়মা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অটিজমের ক্ষেত্রে নিবেদিত অনুকরণীয় ব্যক্তিত্বদের অন্যতম। অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ অটিজম ও অন্যান্য নিউরো-ডেভেলপমেন্টাল ডিজঅর্ডার আক্রান্ত মানুষের অধিকার রক্ষা ও কল্যাণে কাঙ্ক্ষিত  সফলতা অর্জন করে চলেছে ।

ইতোপূর্বে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সায়মা ওয়াজেদ হোসেনকে অটিজম স্পেকট্রাম ডিজঅর্ডারের ক্ষেত্রে ‘গ্লোবাল রিনাউন্ড চ্যাম্পিয়ন’ হিসেবে ঘোষণা দিয়েছে। এছাড়া, গতমাসে সংস্থাটির দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক কার্যালয় এ অঞ্চলের ১১টি দেশের জন্য সায়মাকে অটিজম বিষয়ক ‘শুভেচ্ছা দূত’ হিসেবে নিয়োগ দেয়। তিনি চলতি বছরের এপ্রিলে ভুটানে অটিজম বিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে ‘থিম্পু ডিক্লারেশন’ গ্রহণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

বাংলাদেশে অটিজম বিষয়টি সামনের সারিতে নিয়ে আসার ক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক কার্যালয় ২০১৪ সালে সায়মা ওয়াজেদকে ‘এক্সিলেন্স ইন পাবলিক হেলথ অ্যাওয়ার্ডে’ ভূষিত করে। ‘ঢাকা ঘোষণা’ এবং সাউথ এশিয়ান অটিজম নেটওয়ার্ক (সান) প্রতিষ্ঠায় তার প্রচেষ্টা অটিজমকে এ অঞ্চল এবং এর বাইরে সামনের সারিতে নিয়ে এসেছে। ২০১২ সালের ১২ ডিসেম্বর গৃহীত অটিজম স্পেকট্রাম ডিজঅর্ডার ও অন্যান্য নিউরো ডেভেলপমেন্ট ডিজঅ্যাবিলিটি নিয়ে বসবাসকারী ব্যক্তি তাদের পরিবার ও সমাজের আর্থ-সামাজিক চাহিদা সম্বলিত জাতিসংঘের রেজুলেশন ৬৭/৮২ গ্রহণে বাংলাদেশ নেতৃস্থানীয় ভূমিকা পালন করে।

রাষ্ট্রদূত মোমেন বলেন, ‘অটিজম বিষয়ক জাতীয় সচেতনতা সৃষ্টি, পরিকল্পনা প্রণয়ন ও অটিজমের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির জন্য গত কয়েক বছর ধরে বাংলাদেশ যেভাবে কাজ করে যাচ্ছে, এজন্য বাংলাদেশ গর্ব করতে পারে। বিশ্বব্যাপী ১০ হাজার মানুষের মধ্যে অন্তত ১৬০ জন অটিজম আক্রান্ত । কিন্তু নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশের অটিজম আক্রান্ত শিশুরা খুব কমই চিকিৎসা সুবিধা ও অন্যান্য সেবা পেয়ে থাকে।’

অনুষ্ঠানে সায়মা ওয়াজেদ হোসেন ছাড়াও নিউইয়র্ক সিটি কাউন্সিল মেম্বার ব্রাডল্যান্ডার, কাউন্সিল মেম্বার মার্ক লেভিনি, নিউইয়র্ক সিটি কাউন্সিলের স্পিকার মেলিচ্ছা মার্ক-ভিভারিতো’র কমিউনিটি লিয়াজোঁ কার্যালয়ের কর্মী জেনি বার্গার এবং কলবি হেয়ার্ড নামের ৯ বছরের একটি অটিস্টিক শিশুকেও পদক দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে পদকপ্রাপ্তদের পুরস্কার হিসেবে অটিস্টিক শিশুদের আঁকা চিত্রকর্ম দেওয়া হয়।

(বাসস/এএম/ঘাটাইল.কম)/-

109total visits,1visits today