আমার ধারণা ৮-১০ বছর পর আজকে যে দুর্নীতি, এই অবস্থার একটি পরিবর্তন আসবেঃ অর্থমন্ত্রী

যাদের ক্ষমতা আছে তারাই দুর্নীতি করে। যদি এতে সবাই অংশ না নেয় তাহলে দুর্নীতি হয় কীভাবে। পরোক্ষভাবে আমরা সবাই দুর্নীতিতে জড়িত। সবাই যদি দুর্নীতিতে নিমজ্জিত না থাকত তাহলে দুর্নীতি হতো না। বুধবার দুদকের প্রধান কার্যালয়ে এর হটলাইন নম্বর-১০৬ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত এসব কথা বলেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের রন্ধ্রে রন্ধ্রে দুর্নীতি প্রবেশ করেছে। দুর্নীতিতে আমরা সবাই নিমজ্জিত। যাদের ক্ষমতা আছে তারাই দুর্নীতি করে। পরোক্ষভাবে আমরা সবাই দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত।’

তিনি বলেন, ‘অনেক সময় বাধ্য হয়ে আমাদের দুর্নীতিতে জড়িত হতে হয়। বাংলাদেশে দুর্নীতির সংস্কৃতি ছিল না। এটা একটা গোপনীয়তার মধ্যে ছিল। একটু শরমের সংশ্লিষ্টতা বিষয় ছিল। এখন আর তা নেই।’

দুদকের উদ্দেশ্যে মুহিত বলেন, ‘এক সময় দুদকের এক চেয়ারম্যান দুর্নীতির বিরুদ্ধে জেহাদ করবেন বলে ঘোষণা করেছেন। জেহাদের ভবিষ্যত সব সময় অন্ধকার হয়। কারণ জেহাদ একটি অন্য জিনিস। অব্যশ্যই ধর্মযুদ্ধে এসব ছিল। তবে এখন আর জেহাদ নাই। জেহাদের নাম নিয়ে কোনো পরিবর্তন হয় না।’

তিনি বলেন, ‘তদন্ত নিয়ে একটি বক্তব্য আছে, তদন্ত করবেন ভালো কথা। কিন্তু তবে জেহাদী হবেন না। জেহাদী হলে তদন্তের কোয়ালিটি নষ্ট হয়ে যায়।’

সরকারি চাকরিজীবীদের উদ্দেশ্যে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘সরকারি চাকুরিজীবিরা আগে চিন্তুা করত কিভাবে দুইবেলা খাবারের ব্যবস্থা করা যায়। এখন কিন্তু বলা যেতে পারে সরকারি বেতন মানে সুন্দর জীবন যাপন করা।

আগামী ১০ বছরের মধ্যে দুর্নীতির মাত্রা কমে আসবে বলেও আশা প্রকাশ করেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।

তিনি বলেন, ‘আমি আশাবাদী, আমার ধারণা আট থেকে ১০ বছর পর আজকে যে দুর্নীতি, এই অবস্থার একটি পরিবর্তন আসবে। সাধারণ মানুষেরও অবস্থার পরিবর্তন হচ্ছে। দুর্নীতি যে করতে হবে এরূপ মানসিকতার পরিবর্তন হচ্ছে।’

দুর্নীতি প্রতিরোধে প্রযুক্তির ব্যবহারের উপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, ‘প্রযুক্তি দুর্নীতি দমনে অনেক সুযোগ করে দিয়েছে। প্রযুক্তির সদ্ব্যাবহার দুর্নীতি কমিয়ে দিতে সহায়তা করবে।’

সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পে দরপত্রসহ অন্যান্য ক্ষেত্রে প্রযুক্তির ব্যবহারে দুর্নীতিতে কমে গেছে বলে মনে করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে দুদকের চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ বলেন, ‘দেশের সবচেয়ে বড় সমস্যা দুর্নীতি। আমরা যারা রক্ষক হিসেবে আছি, তারাই ভক্ষক হিসেবে অবতীর্ণ হয়ে আছি। এই প্রয়াস বন্ধ হওয়া চাই।’

জনগণের অংশগ্রহণ না থাকলে দুর্নীতি প্রতিরোধ সম্ভব হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘হটলাইন-১০৬ খোলা হয়েছে। এতে যে কোনো ব্যক্তি দুর্নীতির ঘটনা ঘটার আগে ও পরে অভিযোগ করতে পারবেন। এর ফলে আমরা তড়িৎ গতিতে ব্যবস্থা নিতে পারবো। এই হটলাইন খোলার মাধ্যমে দুদকের সাথে মানুষের সরাসরি সম্পর্ক স্থাপন হলো।’

হটলাইন উদ্বোধনের পর অনুষ্ঠানস্থল থেকে অর্থমন্ত্রী দুদকের কল সেন্টারে ফোন দিয়ে কথা বলেন।

এ সময় অন্যান্যর মধ্যে উপস্থিত ছিলেন দুদক কমিশনার (অনুসন্ধান) ড. মো. নাসির উদ্দিন, কমিশনার (তদন্ত) এ এফ এম আমিনুল ইসলাম এবং দুদক সচিব আবু মো. মোস্তফা কামাল প্রমুখ।

দুদকের হটলাইন ১০৬ অফিস চলাকালীন সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পযন্ত যেকোনো মোবাইল ফোন অপারেটর থেকে বিনা পয়সায় ফোন দিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ দেওয়া যাবে।

(পরিবর্তন/ ঘাটাইল.কম)/-