আদালত কর্তৃক অযোগ্য ঘোষণার ঘণ্টাখানেক পরেই নওয়াজ শরিফের পদত্যাগ

পানামা পেপার্স কেলেঙ্কারির মামলার রায়ে পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফকে ওই পদে থাকার অযোগ্য ঘোষণা করার ঘণ্টাখানেক পরেই তিনি পদত্যাগ করেছেন। খবর ডন নিউজের।

শুক্রবার আদালত এই রায় ঘোষণার পর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে নওয়াজ শরিফের পদত্যাগের বিষয়টি জানানো হয়।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে বলা হয়, সুপ্রিম কোর্টের রায়ের সঙ্গে একমত না হলেও প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ তার পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন।

নওয়াজ শরিফ ও তার পরিবারের সম্পদ নিয়ে উচ্চ পর্যায়ের তদন্তের পর সুপ্রিম কোর্টের পাঁচ সদস্যের বেঞ্চ শুক্রবার দুপুরে সর্বসম্মত এই রায় ঘোষণা করে।

পানামা পেপারসে ফাঁস হওয়া তথ্য অনুযায়ী নওয়াজ ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগ উঠে। ওই অভিযোগের তদন্ত করে যৌথ তদন্ত দল (জেআইটি)। ওই তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, নওয়াজ ও তার পরিবারের সদস্যরা তাদের নামে থাকা বিপুল পরিমাণ সম্পদের উৎস জানাতে ব্যর্থ হয়েছেন। এই প্রতিবেদন আমলে নিয়ে আদালত এই রায় দেন।

বিচারকদের পক্ষে ইজাজ আফজাল খান রায় পড়ে শোনান। তিনি বলেন, ‘একজন সৎ মানুষ না হওয়া প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ পার্লামেন্টের সদস্য থাকার যোগ্য নন। তিনি প্রধানমন্ত্রী হিসেবেও আর কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারবেন না। তার ক্ষমতাসীন দল পাকিস্তান মুসলিম লিগ (পিএমএল-এন)-কে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নতুন কারো নাম প্রস্তাব করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘যৌথ তদন্ত দল(জেআইটি) কর্তৃক সংগৃহীত সব তথ্য-প্রমাণ সাত সপ্তাহের মধ্যে জবাবদিহিতামূলক আদালতে পাঠানো হবে। প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ, ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ সাফদার, মরিয়ম নওয়াজ, হাসান এবং হুসাইন নওয়াজের বিরুদ্ধে রায় ৩০ দিনের মধ্যে ঘোষণা করা হবে।’

এই রায়ের ফলে তৃতীয় মেয়াদে পাকিস্তানের সরকারপ্রধানের দায়িত্বে থাকা এই রাজনীতিবিদকে এখন সরে দাঁড়াতে হবে। সুপ্রিম কোর্টের পাঁচজন বিচারকই রায়ের সঙ্গে একমত পোষণ করেছেন।

মামলার রায়কে ঘিরে ইসলামাবাদের আদালত প্রাঙ্গণে বিপুলসংখ্যক পুলিশ এবং আধা-সামরিক বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়।

পানামা পেপারসে ফাঁস হওয়া তথ্য অনুযায়ী নওয়াজ ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগ উঠে। ওই অভিযোগের তদন্ত করে যৌথ তদন্ত দল (জেআইটি)। ওই তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, নওয়াজ ও তার পরিবারের সদস্যরা তাদের নামে থাকা বিপুল পরিমাণ সম্পদের উৎস জানাতে ব্যর্থ হয়েছেন। এই প্রতিবেদন আমলে নিয়ে আদালত এই রায় দেন।

গত বছর পানামাভিত্তিক আইনি সেবাপ্রতিষ্ঠান মোসাক ফনসেকার ১ কোটি ১৫ লাখ গোপন নথি প্রকাশ করে। তাতে বিশ্বের বহু ক্ষমতাধর, ধনী ও প্রভাবশালী ব্যক্তির বিরুদ্ধে বিপুল অর্থ পাচারের অভিযোগ সামনে আসে। এতেই নওয়াজ এবং তার চার ছেলেমেয়ের মধ্যে তিনজনের নাম আসে।

গত এপ্রিলে সুপ্রিম কোর্ট বলেন, নওয়াজকে ক্ষমতা থেকে সরাতে যথেষ্ট তথ্য-প্রমাণ নেই। এ সময় আদালত প্রধানমন্ত্রীকে অপসারণের দাবির পক্ষে তথ্য সংগ্রহ করতে যৌথ তদন্ত দল (জেআইটি) গঠনের আদেশ দেন।

সামরিক-বেসামরিক গোয়েন্দা সদস্যদের নিয়ে গঠিত ছয় সদস্যের এ তদন্ত দলকে নওয়াজ পরিবারের তিন পুরুষের সম্পত্তির হিসাব নিতে বলা হয়; একইসঙ্গে দুই মাসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়।

যৌথ তদন্ত দলের (জেআইটি) জিজ্ঞাসাবাদেরও প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফ ও তার সন্তানরা একই কথা বলেন।

পাকিস্তান মুসলিম লীগ- নওয়াজের (পিএমএল-এন) দলের নেতা নওয়াজ শরীফের বাবা ছিলেন দেশটির খ্যাতিমান শিল্পপতি।

এর আগে ১৯৯০ ও ১৯৯৯ সালে দুই বার পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হলেও ক্ষমতাচ্যুত হওয়ায় কোনোবারই তিনি মেয়াদ পূর্ণ করতে পারেননি।

দ্বিতীয়বার সেনাবাহিনীর হাতে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে দেশান্তরিত হয়েছিলে নওয়াজ। তখন বেশিরভাগ সময় তিনি থাকতেন সৌদি আরবে। ২০১৩ সালের নির্বাচনে ফের ক্ষমতায় আসেন তিনি।

(ঢাকাটাইমস/ ঘাটাইল.কম)/-

132total visits,1visits today