আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর ১১ উপায়

জীবনে বারবার হারের মুখোমুখি হলে আত্মবিশ্বাস কমতে থাকে। নিজের উপর আস্থা হারায় মানুষ, আর এই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসা খুব কঠিন। ভেঙে পড়বেন না, ইচ্ছে থাকলে এই মানসিক অবস্থা থেকেও বেরিয়ে আসা সম্ভব। আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর পাঁচটি সহজ রাস্তা আছে। তবে সেগুলো অনুশীলনের মাধ্যমে আপনাকে অর্জন করতে হবে। মনে রাখতে হবে পৃথিবীতে কোনো কিছুই বিনা চেষ্টায় পাওয়া যায় না। আর চেষ্টা করলে মানুষ পারে না এমন কোনো কাজ নেই।

১. অ্যাটিটিউড বদলান: মানুষ চাইলে সব পারে, কিন্তু তার মানে এই নয় যে সব কাজই আপনি ভালো পারবেন বা কখনও ব্যর্থ হবেন না। ব্যর্থতাকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিন। ‘আমার দ্বারা কিছুই সম্ভব নয়’ বলে মুষড়ে পড়বেন না। সোজা কথায়, নেগেটিভ চিন্তাভাবনাকে মোটেই প্রশ্রয় দেওয়া চলবে না। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজেকে বলুন যে আপনি পারবেন। নিজেকে নিয়ে স্বপ্ন দেখা কখনও বন্ধ করবেন না।

২. লক্ষ্য স্থির করুন: নিজের জন্য লক্ষ্য স্থির করে নিন। প্রতিদিন সেই লক্ষ্যে পৌঁছনোর জন্য একটু একটু করে তৈরি হোন। নিজের দুর্বলতাগুলিকে চিনুন, জোরের জায়গাগুলিকেও। একমাত্র তা হলেই বুঝতে পারবেন যে অভীষ্ট সিদ্ধ করার জন্য ঠিক কতটা প্ল্যানিং বা পরিশ্রম করতে হবে আপনাকে।

৩. রোজ এমন কিছু একটা করুন, যা করতে ভয় লাগে: প্রত্যাখ্যাত হওয়ার ভয়টা তাড়া করে বেড়ায় আপনাকে? তা হলে প্রতিদিন প্রত্যাখ্যান হজম করাটা প্র্যাকটিস করতে হবে। সেটা কীভাবে সম্ভব ভেবে পাচ্ছেন না? মানুষের কাছে এমন অনুরোধ নিয়ে যান, যা প্রত্যাখ্যাত হতে বাধ্য। প্রতিদিন দশবার রিজেকশন সহ্য করলে সাতদিন পর দেখবেন মুখের উপর ‘না’ শুনলে গায়ে লাগছে না!

৪. জেতার অভ্যেস তৈরি করুন: যেদিন থেকে আপনি জিততে আরম্ভ করবেন, সেদিন থেকে আর পিছন ফিরে তাকাতে হবে না। শুরু দিকে সেট করুন ছোট টার্গেট, পরে বড়ো লক্ষ্যের দিকে যাবেন। টানা সাতদিন আধ ঘণ্টা ব্যায়াম করুন, রাত দশটায় ঘুমোতে যান, পেস্ট্রি থেকে দূরে থাকুন। এইভাবে ছোট ছোট হার্ডল পার হলে নিজেরই ভালো লাগতে আরম্ভ করবে। অন্য কাউকে বিপদে পড়তে দেখলে বাড়িয়ে দিন সাহায্যের হাত। তাকে জিততে দেখলেও আপনার আত্মবিশ্বাস ফিরে আসবে।

৫. বডি ল্যাঙ্গুয়েজ ও সাজপোশাকে পরিবর্তন আনুন: যারা জীবনে খুব সফল, তাদের মধ্যে কতগুলো সাধারণ গুণ থাকে। তারা সুন্দর সাজগোজ করেন, মানুষের চোখের দিকে তাকিয়ে কথা বলেন, নিজের বক্তব্য পেশ করেন সুচারুভাবে। আপনাকেও এগুলি অভ্যেস করতে হবে। নিজের যত্ন নিন, ত্বক-চুল-নখ ঝকঝকে রাখুন। উজ্জ্বল হাসি আর ঝকঝকে ব্যক্তিত্ব অনেক যুদ্ধ জিতিয়ে দিতে পারে আপনাকে। যেমন-তেমন পোশাক পরে অফিস যাবেন না, সুন্দর সাজগোজ বা ব্যক্তিগত গ্রুমিংয়ের জন্যও একটু সময় রাখুন।

৬। স্বাভাবিক শ্বাস প্রশ্বাস: যিনি চাকরির সাক্ষাৎকার বা ইন্টারভিউতে আপনাকে প্রশ্ন করছেন, তাঁর চোখের দিকে সরাসরি তাকিয়ে জবাব দিন। তাঁকে খুশি করার চেষ্টা না করে মন সংযোগের ওপর গুরুত্ব দিন। তাহলেই আপনার আত্মবিশ্বাসের প্রমাণ পাবেন। ইন্টারভিউ দিতে গিয়ে উত্তেজনায় দম আটকে রাখবেন না। স্বাভাবিক থাকুন। উদ্বেগ ও দুশ্চিন্তা করলে আমাদের মস্তিষ্কে রক্তপ্রবাহের ধরন পাল্টে যায়। এতে বোধশক্তি সাময়িক বিঘ্নিত হতে পারে। তাই ধীরে ধীরে গভীরভাবে শ্বাস নিন। এতে আপনার মস্তিষ্ক স্পষ্টভাবে চিন্তা করার সুযোগ পাবে।

৭। নিজের প্রতি সদয়: নিজের প্রতি ঘনিষ্ঠ বন্ধুর মতো মনোভাব বজায় রাখুন। মাথা থেকে যেকোনো জটিল ভাবনা ঝেড়ে ফেলুন। নিজে যেরকমই হোন, তা নিয়ে মনের মধ্যে কোনো ভয় পুষে রাখবেন না। যাঁরা ইন্টারভিউ নিচ্ছেন, তাঁরা তো আপনার ব্যাপারে তেমন কিছুই জানেন না। কাজেই নিজের যোগ্যতার ব্যাপারে গুছিয়ে তাঁদের কাছে বলাটা আপনারই দায়িত্ব।

৮। ধ্যান ও শিথিলায়ন: ইন্টারভিউতে যাওয়ার আগে মনটাকে স্থির, কেন্দ্রীভূত ও শান্ত করার জন্য ধ্যান বা শিথিলায়নের মতো পদ্ধতির অনুসরণ করতে পারেন। পরীক্ষার ঠিক আগে আগে অতীত ও ভবিষ্যতের সব ভাবনা বাদ দিয়ে কেবল বর্তমানের ওপর গুরুত্ব দিন। ইন্টারভিউতে কথা বলার সময় হড়বড় করে অনেক কিছু না বলে মাঝে মাঝে বিরতি নিন। একেকটা নীরব মুহূর্তকে কাজে লাগিয়ে আপনি পরিস্থিতিকে নিজের আয়ত্তে নিতে পারবেন।

৯। নিজের সাফল্যের কল্পনা: ইন্টারভিউর আগেই কল্পনা করুন, চাকরিটা আপনার হয়ে গেছে। এই ভাবনা আপনার আত্মবিশ্বাস বা নিজের প্রতি শ্রদ্ধা অনেকটা বাড়িয়ে দেবে। পরীক্ষাকে হেঁটে যাওয়া, প্রশ্নকর্তার সঙ্গে হাত মেলানো এবং তাঁদের প্রশ্নের জবাব দেওয়ার সময় আপনি এক ধরনের অন্যরকম বাড়তি মানসিক জোর পাবেন। আপনিই কাঙ্ক্ষিত পদটির জন্য সেরা প্রার্থী-এমন মনোবল রাখতে পারলে সাফল্যের সম্ভাবনা অনেকগুণ বেড়ে যাবে।

১০। প্রস্তুতি ও মহড়া: ইন্টারভিউতে কী কী প্রশ্নের মুখোমুখি হতে পারেন, আর সেগুলোর জবাবই বা কেমন হবে- সে সম্পর্কে আগে থেকে কিছুটা ধারণা রাখা ভালো। প্রয়োজনে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার চর্চা করুন। নিজের যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা, ব্যক্তিগত গুণাবলি ইত্যাদি সুন্দরভাবে সংক্ষেপে বর্ণনা করার কৌশল রপ্ত করতে হবে। এতে আপনার আত্মবিশ্বাস বাড়বে।

১১। উদ্বেগের সঙ্গে বন্ধুত্ব: নিজের যাবতীয় দুশ্চিন্তা ও উদ্বেগের সঙ্গে বন্ধুত্ব গড়ে তুলুন। আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর ক্ষেত্রে এটি একটি অভিনব কার্যকর কৌশল। এভাবেই মনের নানারকম বাধাকে পোষ মানাতে হবে আপনাকে। ইন্টারভিউর আগে নিজেকে বলুন, ‘হে উদ্বেগ, আমার পুরোনো বন্ধু। তুমি এসেছ বলে ধন্যবাদ। আমি কৃতজ্ঞ তোমার কাছে!’ ব্যাপারটা অদ্ভুত শোনালেও কৌশল হিসেবে বেশ কার্যকর। নিজের দুশ্চিন্তাকে এভাবে হেসে উড়িয়ে দেখুন না, কী হয়। নিশ্চয়ই ইতিবাচক ভাবনার সুযোগ তৈরি হবে।

(অনলাইন ডেস্ক, ঘাটাইলডটকম)/-

115total visits,2visits today