আজাদ বঙ্গবাসীর কবিতা

০১

তুলে নাও তীরগুলো

তীরটা এতোই লম্বা যে ওই আকাশ থেকে মাটির সমান
কি করে সইবো বলো? যেখানো কোন দিন কোন ব্যথাই
স্পর্শ করেনি

সেখানে কেউ সাতটি পৃথিবী ভাঙার সমান দুঃখ দিলে-
হৃদয়ের নাম তো রক্ত বৃষ্টি হবেই!

শরীরে শরীর ঘষে একবেলার ক্ষুধা মিটতেই পারে
তাতেই কি একটা সাদা মনের মূল্য দেয়া যায়?

আমার কাছে মন মানে মন বাড়িয়ে মন ছোঁয়া
যা কোন রাষ্ট্রের সংবিধানে লেখা নেই!
যা কোন সংসারের গণ্ডিতে বাঁধানে নেই!
যেখানে চোখের ভেতর কেবলই খেলা করে
অনন্ত ভালো লাগা
যেখানে মিলনের নাম- পৃথিবী ভোলার দেহনামা!

 

০২

ছলনা শিখিনি বলেই কন্যা

আগামী শনিবার তোমার খোঁপায় গুঁজে দেবো
আমাকে
তুমি আমাকে মুখস্ত করতে চাইলেও জানি-
দুই হাত দূরে বসে আওড়াতে থাকবে
জ্বরে পুড়ার গল্প।

ছলনা শিখিনি বলেই কন্যা- ওভাবে হেসো না! কেবল মনের দামেই মন করি বেঁচা কেনা।

তুমি শামুকের মত আস্তে করে হেটে যেও আগামী শনিবার
আমি যেনো সহজেই তোমার খোঁপায় গুঁজে যেতে পারি।

 

০৩

জ্যামিতিক আঙুনের ষোল কলা

এই লাজ্জজাকে পুরুষ হতে-ত্রিকোণ জ্যামিতি তাঁর
তেরোতম আগুনের গাঙে ডাকে
‘বুকের জায়নামাযে’ সোহাগের ইবাদত বিছিয়ে
একটি বার খসে যাওয়া তারার মত নিতে চায় সে
মানুষে মানুষ পাবার সুখ।

ইমারতের উচ্চবিলাস চুডির মত ভেঙে
শিখতে চায় সে পুরুষের সংজ্ঞার্থ
সন্ধ্যা থেকে ভোরের সমান সময় ধরে তাঁর
একটি শরীরে কেবল একটি শরীরই মুখস্ত করার ইচ্ছা।

পারে না সে
খোঁপায় ফুল গোজা একটি দিনকে, ইতিহাস করতে
পারে না কাঁচা অঙ্গে
কোন এক প্রিয় মাঝিরে তৃপ্তির কূলে পৌঁছানোর
সুখ দেখাতে।

দুঃখে, অভিমানে, কুকুরকেই বলে সে
নে পুষা পুরুষ ধর্ম নে!
জ্যামিতিক আঙুনের ষোল কলা চিনে নে!

 

(আজাদ বঙ্গবাসী, টাংগাইল/ ঘাটাইল কম)/-

155total visits,1visits today

Leave a Reply