অবৈধভাবে কালিহাতীর পৌলী নদীর মাটি উত্তোলন, হুমকিতে রেলসেতু

টাঙ্গাইলের পৌলী নদী থেকে অবৈধভাবে মাটি কাটার ফলে আবারো হুমকির মুখে পড়েছে ৩২ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সড়ক ও রেল সেতু। দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে মাটি কাটার ফলে সড়ক ও রেল সেতুর দুই পাশ থেকে মাটি সরে গিয়ে বড় কোনো দুর্ঘটনার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এছাড়া অবৈধ মাটি কাটায় আশপাশের এলাকায় বর্ষা মৌসুমে ব্যাপক ভাঙনের কবলে পড়ে দেড় শতাধিক পরিবার ভিটেবাড়ি ছাড়া হয়।

গত বর্ষা মৌসুমে রেলসেতুর দক্ষিণ পাশের নিচ থেকে মাটি সরে যাওয়ায় ঢাকার সাথে উত্তরবঙ্গের রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। তারপরও স্থানীয় প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা না নেয়ায় মাটি খেকোরা আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠেছে।

সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার পৌলী নদীর ওপর কোটি টাকা ব্যয়ে নবনির্মিত সড়ক ও রেল সেতুর অদূরে কমপক্ষে ১০টি বেকু বসিয়ে মাটি কাটা হচ্ছে। এতে পুংলী নদীর ওপর পাশাপাশি নির্মিত সড়ক ও রেল সেতু দুইটি হুমকির মুখে রয়েছে। দিনের পর দিন এভাবে মাটি কাটার ফলে যে কোনো সময় নদীর ওপর সেতু দুটি দেবে যেতে পারে।

এলাকাবাসী জানায়, স্থানীয় প্রভাবশালী বেশ কয়েকজন ব্যক্তি স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনকে ম্যানেজ করে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে মাটি কর্তন ও বিক্রি করছেন। মাটি খেকোরা পুংলী নদী থেকে কর্তন করা কোটি কোটি টাকার মাটি বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করে আঙুল ফুলে কলাগাছ হয়ে গেছে। এদিকে, অতিরিক্ত বালুভর্তি ট্রাক যাতায়াতের কারণে পৌলী ও মহেলা গ্রামের একমাত্র পাকা রাস্তাটি ভেঙে চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে।

অপরদিকে, বেকু দিয়ে মাটি কাটার কারণে সম্প্রতি দু’বার তিতাস গ্যাসের মূল পাইপলাইন ভেসে উঠে টাঙ্গাইল, গাজিপুরসহ আশপাশের জেলাগুলোতে গ্যাস সংযোগ বন্ধ হয়ে যায়। এতে সাধারণ জনগণকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। ওই সময় নদীতে নৌচলাচল ও ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়। পরে পাইপ লাইন মেরামত করা হলে আবার অবৈধভাবে ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন শুরু করে প্রভাবশালীরা। গ্যাসপাইপ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, লোক দেখানোর জন্য মাঝেমধ্যে নদী থেকে বালু উত্তোলন বন্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান চালানো হলেও ভ্রাম্যমাণ আদালত চলে যাওয়ার পর পরই আবার শুরু হয় মাটি কাটার মহোৎসব।

ফটিকজানী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আক্তারুজ্জামান জানান, স্থানীয় প্রভাবশালী মহল ও রেলওয়ের কিছু অসাধু কর্মকর্তাদের যোগসাজশে এ অবৈধ মাটি কর্তন করা হচ্ছে। এতে রেলসেতু, কবরস্থান, বসতভিটা ও স্কুলের ব্যাপক ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কতিপয় ব্যবসায়ী জানান, মাটি কাটতে তাদেরকে প্রশাসন কোনো অনুমতি দেয়নি সত্য। কিন্তু স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনকে ম্যানেজ করেই তারা ব্যবসা চালাচ্ছেন, রাজনৈতিক নেতা ও মসজিদ-মাদ্রাসায়ও তারা টাকা দিয়ে থাকেন।

কালিহাতী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোছাম্মৎ শাহীনা আক্তার বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেলে তদন্ত পূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ রেলওয়ে পশ্চিম অঞ্চলের সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুর রশিদ জানান, ওই মাটি কেটে রেলওয়ে সেতুর দক্ষিণ পাশে ধসে যাওয়া অংশে ফেলা হচ্ছে। এ মাটি বিক্রির কোনো বিষয় আমার জানা নেই।

এ বিষয়ে টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শাজাহান সিরাজ বলেন, পুংলী নদী থেকে মাটি কাটার জন্য আমরা কাউকে অনুমতি দেইনি। যারা মাটি কেটে বিক্রি করছে তারা তা সম্পূর্ণ অবৈধভাবে করছে।

(কালিহাতী প্রতিনিধি, ঘাটাইল ডট কম)/-

97total visits,1visits today